গণিতের ইতিকথা (সংক্ষিপ্ত)।

আপনারা শুনে খুশি হবেন যে, এখন থেকে সাধারণ গণিতের প্রতিটি টপিক ধারাবাহিক ভাবে পোস্ট করা হবে। এবং পোস্টের শেষে সেল্ফ টেস্টের ব্যবস্থা ও রাখা হয়েছে।

আনুমানিক ৫৫০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে গনিতের পথচলা। বর্তমান ইরাকের দক্ষিণ অংশ তৎকালীন সময়ে মেসোপটেমিয়া নামে পরিচিত ছিল। মেসোপটেমিয়ার বাসিন্দা ছিল সুমেরীয়রা, যেটাকে আমরা অনেকে প্রাচীন সুমেরীয় সভ্যতা নামে চিনি। তারা ছিল পৃথিবীর প্রথম সংগঠিত ও শহুরে বসবাসকারী মানবসম্প্রদায়।

দৈনন্দিন প্রয়োজন ও ক্রয়-বিক্রয়ের চাহিদা থেকে সেখানে গণনা করার রীতি প্রচলিত হয়। যেহেতু তখনো কেউ লিখিত পদ্ধতির প্রচলন শুরু করেনি, তাই তারা একধরনের মাটির তৈরি টোকেন উদ্ভাবন করে (দেখতে কিছুটা পেরেক আকৃতির) এবং প্রতিটি টোকেন দ্বারা একটি অঙ্ক বোঝানো হতো। শহুরে নাগরিকদের কর, রাজস্ব আদায়ের হিসাব-নিকাশ, পণ্যদ্রব্যের হিসাব, পশু গণনা ইত্যাদি কাজে ব্যবহার করা হতো এগুলো। এটাই ছিল গণিতের সূচনা।।

খ্রীঃপূঃ ৬০০ থেকে খ্রীঃপূঃ ৩০০-এর মাঝে গ্রিকদের গণিতে বিরাট অবদান ছিল। মিশরীয় ও বেবীলনীয়দের ধারণা থেকে তাদের গণিতের ধারণা উদ্ভূত; তবে তারাই প্রথম ব্যবহারিক সমস্যা থেকে গণিতকে আলাদা করেছে। বিন্দু, রেখা, বৃত্ত, ত্রিভুজ- এগুলোর গাণিতিক বিকাশ ঘটেছে।

Thales (থ্যালাস: খ্রীঃপূঃ ৬২৪?-খ্রীঃপূঃ ৫৪৬) জ্যামিতির এ নতুন দৃষ্টিভঙ্গির প্রচলন করেন। Pythagoras (পিথাগোরাস: খ্রীঃপূঃ ৫৮২?-খ্রীঃপূঃ ৪৯৩) এবং তাঁর অনুসারীরা সংখ্যা প্রকৃতি ব্যাখ্যা (ও সংখ্যা বন্দনা) করছেন; তাছাড়া পিথাগোরাসের বিখ্যাত উপপাদ্যটি তো আছেই। সে সময়ে ঊঁপষরফ (ইউক্লিড: খ্রীঃপূঃ ৩০০ সময়কালীন) ছিলেন একজন শীর্ষস্থানীয় গণিতবিদ। তিনি জ্যামিতিকে একক যৌক্তিক ব্যবস্থায় সনি্নবেশিত করেছিলেন।

তাঁর বিখ্যাত বই, The Elements এখন পর্যন্ত গণিত অধ্যয়নের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মৌলিক কাজ হিসেবে বিবেচিত। গ্রিকরা অমূলদ সংখ্যার সাথে পরিচিত ছিল। যেমন: ২ এর বর্গমূল। অনুপাতের সূত্রায়ণ ও জ্যামিতির উন্নয়নে জ্যোতির্বিদ Eudoxus (ইউডোক্সস: খ্রীঃপূঃ ৪০৮- খ্রীঃপূঃ ৩৫৫)-এর অবদান রয়েছে।

Archimedes (আর্কিমিডিস: খ্রীঃপূঃ ২৮৭?- খ্রীঃপূঃ ২১২) সে সময়কার প্রধান ও শ্রেষ্ঠ গণিতবিদ। বলবিদ্যা, জ্যামিতি ও পাটিগণিতে তাঁর অবদান অনেক। আধুনিক গণিতের অনেক কিছুরই তিনি পূর্বকল্পক; যেমন তাঁর হাতেই ইন্টিগ্রাল ক্যালকুলাসের জন্ম সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছিল এবং তিনি p [পাই] এর সঠিক মান নির্ণয়ের কাছাকাছি পেঁৗছান। জ্যোতির্বিদ Ptolemy-র (টলেমি: ১০৫ খ্রীঃ সময়কালীন) ত্রিকোণমিতিতে এবং Diophantus (ডাইওফেন্টাস: ২৭৫ খ্রীঃ সময়কালীন) যিনি আধুনিক বীজগণিতের পথিকৃৎ বা জনক তাঁর সমীকরণ তত্ত্বে উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে। গণিতে রোমানদের অবদান বিশেষ উল্লেখ করার মত নয়।

যদিও তারা মুঙ্কর সব স্থাপত্য তৈরি করেছেন; বিশুদ্ধ গণিতে তাদের আগ্রহ ছিল না। তাদের গণিতবিদরা মূলত সামরিক বিজ্ঞানের উন্নয়ন ঘটিয়েছেন।

৪৭৬ খ্রীঃ-এর দিকে রোম সাম্রাজ্যের পতনের পর প্রায় কয়েকশ বছর ইউরোপে গণিতের কোনো উন্নতি হয়নি। কিন্তু আরবরা গ্রিক ও রোমানদের গাণিতিক ঐতিহ্য ধারাবাহিক রেখেছিলেন। ভারতীয়রা দশভিত্তিক স্থানীয় মানের সংখ্যা পদ্ধতি ও শূন্য আবিষ্কার (৫০০ খ্রীঃ?) করেছেন। ৭০০ খ্রীঃ এর দিকে আরবরা ভারতীয়দের এ নতুন সংখ্যা পদ্ধতি তাদের গণিতে ব্যবহার শুরু করেন।

আরবরা গ্রিকদের অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ ও বই সংরক্ষণ এবং অনুবাদ করেন; তারা তাদের নিজস্ব অবদানও রাখেন। al-Khwarizmi (আল খোয়ারিজমি: ৭৮০-৮৫০?) বীজগণিতের বিকাশ ঘটিয়েছেন। Algebra (বীজগণিত) শব্দটি তাঁর Algebar wal Muquabalah (আলজেবার ওয়াল মুকাবিল্লা) নামক বইয়ের টাইটেল থেকে নেয়া।

ফার্সি ভাষায় রুবাইয়াৎ-এর লেখক Omar Khayyam (ওমর খৈয়াম: ১০৫০-১১২২) আরবী বীজগণিতও রচনা করেছিলেন এবং গ্রিক জ্যামিতি ও ভারতীয় বীজগণিতে তাঁর স্বীয় জ্ঞানের সদ্ব্যবহার করেছিলেন। ১১০০ খ্রীঃ এর পর ইউরোপীয়ানরা আরব বিশ্ব থেকে গণিতের ধারণা নেয়া শুরু করল। তখন ইউরোপীয় বণিকরা দশভিত্তিক স্থানীয় মানের সংখ্যা পদ্ধতি ও শূন্য ব্যবহার শুরু করেন।

ইউরোপীয় বিজ্ঞরা আরবদের বীজগণিত ও জ্যামিতির উপর লেখা পড়তে শুরু করেন। ইতালীয় Leonardo Fibonacci (ফিবোনাচ্চি: ১১৭০?-১২৪০?) মধ্যযুগে ইউরোপের প্রধান গণিতবিদ, যার বীজগণিত, সংখ্যা তত্ত্ব, পাটিগণিত ও জ্যামিতিতে অবদান রয়েছে।

নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করুন:

★ ক্যালকুলাসের আদি ধারণা দেন কে?

★ সংখ্যাতত্ত্বের জনক কে?

★ জ্যামিতির জনক কে?

★ রোমান M প্রতিকের অর্থ কি?

ভালো লাগলে পোস্টটি নিজের টাইমলাইনে শেয়ার করে রাখুন।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: এই ওয়েবসাইটের কোনো কনটেন্ট অন্য কোন ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা দণ্ডনীয় অপরাধ। ইতিমধ্যে থানায় একটি জিডি করা হয়েছে। কেউ এই ওয়েবসাইটের কনটেন্ট কপি করে নিজের নামে চালিয়ে দিলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Share on facebook
Facebook
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on telegram
Telegram
Share on email
Email
Share on twitter
Twitter

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts

Latest Jobs

সকল কবি সাহিত্যিক লেখকের সাহিত্যকর্ম মনে রাখার উপায় !

সকল কবি সাহিত্যিক লেখকের সাহিত্যকর্ম মনে রাখার উপায় ! ইসমাইল হোসেন সিরাজীর উপন্যাস মনে রাখার সহজ উপায়: রানুর ফিতা ১। রা – রায় নন্দিনী ২।

Read More »

সিলেট কর কমিশনারের কার্যালয়ে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি

সিলেট কর কমিশনারের কার্যালয়ে ৭১ জনের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত। সিলেট কর কমিশনারের কার্যালয়ে মোট ৯ টি পদে ৭১ জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে। আবেদন শুরু-২৯ ডিসেম্বর

Read More »

প্রতিরক্ষা মন্ত্রনালয়ে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি

প্রতিরক্ষা মন্ত্রনালয়ে ৩৮ জনের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত। আবেদন শুরু-১৫ ডিসেম্বর, ২০২০ সকাল ১০ টা থেকে। আবেদন শেষ- ৪ জানুয়ারি, ২০২০ বিকাল ৫ টা। আবেদন করতে

Read More »

শক্তির উৎস

শক্তির উৎস শক্তির প্রধান উৎস (prime sources of energy) সূর্যই প্রায় সকল শক্তির উৎস । এছাড়াও পরমাণুর অভ্যন্তরে নিউক্লিয়াসের নিউক্লিয় শক্তি ও  পৃথিবীর অভ্যন্তরে অবস্থিত উত্তপ্ত গলিত

Read More »

বিশ্বসভ্যতা (A 2 Z)। ২০০ MCQ

বিশ্বসভ্যতা পৃথিবী এ পর্যন্ত পাড়ি দিয়েছে চারটি বরফ যুগ ও চারটি আন্তঃবরফ যুগ। প্রতি যুগেই উষ্ণ অঞ্চলে গিয়ে টিকে থাকা প্রাণীদের দেহের আকৃতিতে কিছু পরিবর্তন

Read More »

সকল কবি সাহিত্যিক লেখকের সাহিত্যকর্ম মনে রাখার উপায় !

সকল কবি সাহিত্যিক লেখকের সাহিত্যকর্ম মনে রাখার উপায় ! ইসমাইল হোসেন সিরাজীর উপন্যাস মনে রাখার সহজ উপায়: রানুর ফিতা ১। রা – রায় নন্দিনী ২।

Read More »

সিলেট কর কমিশনারের কার্যালয়ে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি

সিলেট কর কমিশনারের কার্যালয়ে ৭১ জনের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত। সিলেট কর কমিশনারের কার্যালয়ে মোট ৯ টি পদে ৭১ জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে। আবেদন শুরু-২৯ ডিসেম্বর

Read More »

প্রতিরক্ষা মন্ত্রনালয়ে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি

প্রতিরক্ষা মন্ত্রনালয়ে ৩৮ জনের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত। আবেদন শুরু-১৫ ডিসেম্বর, ২০২০ সকাল ১০ টা থেকে। আবেদন শেষ- ৪ জানুয়ারি, ২০২০ বিকাল ৫ টা। আবেদন করতে

Read More »

শক্তির উৎস

শক্তির উৎস শক্তির প্রধান উৎস (prime sources of energy) সূর্যই প্রায় সকল শক্তির উৎস । এছাড়াও পরমাণুর অভ্যন্তরে নিউক্লিয়াসের নিউক্লিয় শক্তি ও  পৃথিবীর অভ্যন্তরে অবস্থিত উত্তপ্ত গলিত

Read More »

বিশ্বসভ্যতা (A 2 Z)। ২০০ MCQ

বিশ্বসভ্যতা পৃথিবী এ পর্যন্ত পাড়ি দিয়েছে চারটি বরফ যুগ ও চারটি আন্তঃবরফ যুগ। প্রতি যুগেই উষ্ণ অঞ্চলে গিয়ে টিকে থাকা প্রাণীদের দেহের আকৃতিতে কিছু পরিবর্তন

Read More »