চর্যাপদ সমাচার – বাংলা সাহিত্য !

চর্যাপদের মৌলিক তথ্য:

অনেক প্রাচীন সাহিত্যকর্ম হলেও এটির আবিষ্কার খুব বেশিদিন আগের কথা না। ১৯০৭ খ্রীস্টাব্দে মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপালের রাজদরবারের গ্রন্থশালা “রয়েল লাইব্রেরি” থেকে চর্যার একটি খণ্ডিত পুঁথি উদ্ধার করেন। মূলত ১৮৮২ সালে রাজা রাজেদ্র লাল মিত্র “Sanskrit Buddhist Literature in Nepal” গ্রন্থে চর্যাপদের অস্তিত্বের কথা বলেছিলেন। আর সেই সূত্র ধরে হরপ্রসাদ শাস্ত্রী চর্যাপদ আবিষ্কারে উদ্দীপ্ত হন। চর্যাপদের সাথে ‘ডাকার্ণব’ এবং ‘দোহাকোষ’ নামে আরো দুটি বই নেপালের রাজ দরবারের গ্রন্থাগার হতে আবিষ্কৃত হয়।

১৯১৬ সালে সবগুলো বই একসাথে ‘হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান এবং দোহা’ নামে প্রকাশ করেন..পরবর্তীতে ১৯২৩ সালে বাংলা ১৩২৩ বঙ্গাব্দ কলকাতার বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে এটি প্রকাশিত হয়। বাংলা ভাষার প্রথম কাব্য/কাবিতা সংকলন চর্যাপদ। এটি বাংলা সাহিত্যের আদিযুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন..ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপালের রাজ দরবারের গ্রন্থাগার হতে ১৯০৭ সালে ‘চর্যাচর্য বিনিশ্চয়’ নামক পুথিটি আবিষ্কার করেন।এটি প্রকাশিত হবার পর পালি সংস্কৃত সহ বিভিন্ন ভাষাবিদ রা চর্যাপদকে

চর্যাপদের ভাষা বাংলা কি-না সে বিষয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছিল পরবর্তীতে যার অবসান হয়েছে। এটি বাংলা ভাষার একটি গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন। চর্যাপদের রচয়িতা বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্যগণ সংস্কৃতে পারদর্শী হলেও তাঁরা তৎকালীন অপরিণত বাংলাতেই পদগুলি রচনা করেছিলেন। চর্যাপদের ভাষা বাংলা ভাষার অদ্যাবধি আবিষ্কৃত আদিতম রূপ। ডক্টর সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় তাঁর “Origin and Development of the Bengali language” (ODBL) _ গ্রন্থে বলেছেন__ “বাংলা নিশ্চয়ই,বাংলার মূর্তি অবহটঠের সদ্যোনির্মোক মুক্ত রূপ”। তবে ডঃ মুঃ শহীদুল্লাহ চর্যার ভাষাকে প্রাচীন বাংলা কিংবা প্রাচীন বঙ্গকামরুপী ভাষা বলাই সঙ্গত মনে করেন। ম্যাক্সমুলারের মতে “চর্যাপদের ভাষা হলো প্রচ্ছন্ন ভাষা”। নির্দিষ্ট কোন রুপ নাই বিধায় অনেকে চর্যার ভাষাকে সান্ধ্যাভাষা বা আলো আধারির ভাষা বলেছেন।

চর্যাপদ শুধু প্রাচীন বাংলা সাহিত্যেরই নিদর্শন নয়, প্রাচীন বাংলা গানেরও নিদর্শন। প্রতিটি পদের শুরুতে রাগ-তাল ও প্রতি জোড়-পদে ‘ধ্রুব’ শব্দের উল্লেখ থাকায় নিশ্চিত প্রমাণিত হয় যে, এগুলি তখন গাওয়া হতো। এ ছাড়া পদগুলি থেকে তৎকালীন বাঙালি জীবনের আচার-আচরণ ও সমাজের বাস্তবঘন পরিচয়ও পাওয়া যায়। যেমন তখনকার মানুষ হরিণ শিকার, নৌকা চালনা, চেঙারি তৈরি, শুঁড়ির কাজ ইত্যাদি করত। কাড়া-নাকাড়া ও ঢাক-ঢোল বাজিয়ে বর-কনেকে বিয়ের আসরে নিয়ে যাওয়া হতো। সমাজে যৌতুক প্রথা প্রচলিত ছিল। গরু ছিল গৃহপালিত পশু; হাতিরও উল্লেখ আছে। মেয়েরা পরিধানে ময়ূরপুচ্ছ, গলায় গুঞ্জার মালা এবং কর্ণে কুন্ডল পরত। টাঙ্গি, কুঠার, নখলি বা খন্তা ছিল উল্লেখযোগ্য অস্ত্র। তবে সমকালীন সমাজের এসব চিত্র অঙ্কন করলেও চর্যাকারেরা প্রধানত ছিলেন বৈরাগ্যপন্থি, জগৎমুখী নন। ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, প্রাচীনতম চর্যাকার শবরপা এবং আধুনিকতম চর্যাকার সরহ বা ভুসুকুপা।

কাহ্নপা সর্বাধিক ১৩টি পদ রচনা করেন দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদ লেখেন-ভুসুকুপা: ৮টি। শবরপাকে চর্যাপদের বাঙালি কবি মনে করা হয়। চর্যাপদ মাত্রাবিত্ত ছন্দে রচিত। চর্যাপদ গ্রন্থে মোট কয়টি পদ পাওয়া গেছে-সাড়ে ছেচল্লিশটি (একটি পদের ছেঁড়া বা খন্ডিত অংশসহ)। চর্যার পদগুলো সন্ধ্যা বা সান্ধ্য ভাষায় রচিত। সন্ধ্যা বা সান্ধ্য ভাষা-যে ভাষা সুনির্দিষ্ট রূপ পায় নি, যে ভাষার অর্থও একাধিক অর্থাৎ আলো-আঁধারের মত,সে ভাষাকে পন্ডিতগণ সন্ধ্যা বা সান্ধ্যভাষা বলেছেন। চর্যাপদ গ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত প্রথম পদটি লেখা-লুইপার। চর্যাপদের আবিষ্কারক হরপ্রসাদ শাস্ত্রী। নেপালের রয়েল লাইব্রেরি থেকে, ১৯০৭সালে চর্যাপদ আবিষ্কার করা হয়। ১৯১৬ খ্রিস্টাব্দে (১৩২৩ বঙ্গাব্দ) কলকাতার বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ থেকে চর্যাপদ আধুনিক লিপিতে প্রকাশিত হয়। এর সম্পাদনা করেন মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী।

মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে ৬৫০খ্রিস্টাব্দ থেকে, সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে ৯৫০ থেকে ১২০০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে পদগুলো রচিত। সুকুমার সেন সহ বাংলা সাহিত্যের প্রায় সব পন্ডিতই সুনীতিকুমারকে সমর্থন করেন।

চর্যাপদের নাম নিয়ে প্রস্তাবগুলো -কারো মতে গ্রন্থটির নাম, ‘আশ্চর্যচর্যাচয়’, সুকুমার সেনের মতে ‘চর্যাশ্চর্যবিনিশ্চয়, আধুনিক পন্ডিতদের মতে এর নাম ‘চর্যাগীতিকোষ’ আর হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর মতে ‘চর্য্যার্চয্যবিনিশ্চয়’। তবে ‘চর্যাপদ’ সবার কাছে গ্রহণযোগ্য নাম। চর্যার কবিদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা প্রাচীন বলে মনে করা হয়-শবরপা (৬৮০ থেকে ৭৬০ খ্রিস্টাব্দ)। চর্যাপদের সর্বাধিক পদরচয়িতা -কাহ্নপা। চর্যাপদে যে পদগুলো পাওয়া যায় নি তার মধ্যে কাহ্নপার রচনা বলে মনে করা হয়-২৪ নং পদটি। চর্যাপদে কাহ্নপা আর কি কি নাম পাওয়া যায়-কাহ্নু, কাহ্নি, কাহ্নিল, কৃষ্ণচর্য,কৃষ্ণবজ্রপাদ। অনেকের মতে কুক্কুরীপা নারী ছিলেন। 

চর্যাপদ
চর্যাপদ

কুক্কুরীপা রচিত অতিপরিচিত দুটি পংক্তি -দিবসহি বহূড়ী কাউহি ডর ভাই।রাতি ভইলে কামরু জাই। (পদ:২) (অর্থাৎ দিনে বউটি কাকের ভয়ে ভীত হয় কিন্তু রাত হলেইসে কামরূপ যায়।) লুইপা ছিলেন-প্রবীণ বৌদ্ধসিদ্ধাচার্য ও চর্যাপদেরকবি। তিববতী ঐতিহাসিক লামা তারনাথের মতে লুইপা পশ্চিমবঙ্গের গঙ্গার ধারে বাস করতেন। হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর মতে লুইপা রাঢ়অঞ্চলের লোক। চর্যাপদের প্রথম পদটি রচনা লুইপার। কাআ তরুবর পাঞ্চ বি ডাল।চঞ্চল চীএ পৈঠা কাল\ (পদ: ১) ( অর্থাৎ দেহগাছের মত, এর পাঁচটি ডাল। চঞ্চল মনে কালপ্রবেশ করে।) লুইপা রচিত সংস্কৃতগ্রন্থের নাম পাওয়া যায়, – ৫টি। অভিসময় বিভঙ্গ, বজ্রস্বত্ব সাধন, বুদ্ধোদয়, ভগবদাভসার, তত্ত্ব সভাব। শবরপা -তার জীবনকাল ৬৮০ থেকে ৭৬০খ্রিস্টাব্দের মধ্যে। সেই সূত্রে শবরপা চর্যারকবিদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা প্রাচীন। মুহুম্মদ শহীদুল্লাহর মতে তিনি ‘বাংলা দেশে’র লোক। শবরপা গুরু ছিলেন-লুইপার।

চর্যাপদ এর অতি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:

  • বাংলা সাহিত্যের আদি নিদর্শন
  • বাংলা ভাষার প্রাচীনতম পদ সংকলন
  • বাংলা ভাষার প্রাচীনতম সাহিত্য
  • বাংলা সাহিত্যের প্রথম গ্রন্থ
  • বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন

_________________________

  • চর্যা শব্দের অর্থ- আচরণ
  • চর্যাপদ এর অন্যান্য নাম সমূহ: চর্যাগীতিকোষ, চর্যাগীতি,চর্যাপদ,চর্যাশ্চবিনিশ্চয়।
  • আধুনিক গবেষকগন গ্রন্থমালা থেকে অনুমান করেন মূল পদ্ধতির নাম ছিল চর্যাগীতিকোষ এবং তার সংস্কৃতি টিকাটি চর্যাশ্চবিনিশ্চয়। অধ্যাপক সতীশ কুমার বন্দোপাধ্যায়ও এই মন গ্রহণ করেন।
  • এটি গানের সংকলন। ( বাংলা সাহিত্যের প্রথম কবিতা সংকলন/ কাব্য সংকলন বলে এটাই হবে। কারণ চর্যাপদের কবিতাগুলো পাওয়া হয় বলে এগুলো একই সাথে গান ও কবিতা)
  • এটি মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত।
  • খ্রিস্টীয় অষ্টম থেকে দ্বাদশ শতাব্দীর মধ্যবর্তী সময়ে রচিত এই গীতি পদাবলীর রচয়িতা ছিলেন সহজিয়া বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্যগণ। বৌদ্ধ ধর্মের গুরু অর্থ সাংকেতিক রূপের আশ্রয়ে ব্যাখ্যার উদ্দেশ্যেই তারা পদগুলো রচনা করেছিলেন। বাংলা সাধন সংগীত শাখাটির সূত্রপাত হয়েছিল এই চর্যাপদ থেকেই। সে বিবেচনায় এটি একটি ধর্মগ্রন্থ জাতীয় রচনা।
  • বিষয়বস্তু: বৌদ্ধ ধর্মের সাধন-ভজনের তথ্য প্রকাশ।
  • চর্যাপদ: সহজিয়া বৌদ্ধ ধর্মালম্বীদের সাহিত্য।
  • ১৯০৭  খ্রিস্টাব্দে মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী, নেপালের রাজদরবার থেকে চর্যার একটি খণ্ডিত উদ্ধার করেন। তাই তাকেই চর্যাপদের আবিষ্কারক বলা হয়। পরবর্তীতে আচার্য সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ভাষাতাত্ত্বিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে চর্যাপদের সঙ্গে বাংলা ভাষার যোগসুত্র বৈজ্ঞানিক যুক্তি সভা প্রতিষ্ঠা করেন।
  • প্রকাশিত হয়- আবিষ্কারের নয় বছর পরে ১৯১৬ সালে।
  • ভাষা: আলো আঁধারি ভাষা বা সান্ধ্য ভাষা।
  • চর্যাপদের ভাষা অস্পষ্ট ও দুর্বোধ্য। সেই কারণে চর্যায় ব্যবহৃত ভাষাকে হরপ্রসাদ শাস্ত্রী বলেছেন সান্ধ্যভাষা।
  • চর্যাপদের ভাষাকে বাংলায় প্রতিপন্ন করেন- ডক্টর সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়।

চর্যাপদের রচনা কাল:

  • ডঃ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর মতে- ৬৫০ সালে।
  • ডক্টর সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়সহ অধিকাংশের মতে- ৯৫০ থেকে ১২০০ সালে।

চর্যাপদের মোট পদ বা গান সংখ্যা:

  • ডঃ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর মতে -৫০ টি
  • সুকুমার সেনের মতে- ৫১ টি
  • এর মধ্যে পাওয়া গেছে- ৪৬ টি, মতান্তরে- সাড়ে ৪৬ টি

চর্যাপদের মোট রচয়িতা/ লেখক:

  • ডঃ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর মতে ২৩ জন।
  • সুকুমার সেনের মতে ২৪ জন।

চর্যাপদের প্রথম পদটির রচয়িতা:

  • ডঃ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর মতে শবরপা।
  • অধিকাংশের মতে লুইপা। (পরীক্ষায় আসলে এটিই হবে)
  • লুইপা বাংলা সাহিত্যের আদি বা প্রাচীন কবি।

চর্যাপদের সবচেয়ে বেশি পদ রচনা করেন কাহ্নপা। তিনি মোট পদ রচনা করেন ১৩ টি। তাই তিনিই চর্যাপদের রচয়িতা।

  • চর্যাপদের বাঙালি রচয়িতা- শবরপা ( তিনি চর্যাকর ছিলেন)।
  • চর্যাপদের কবি রাম পদ রচনা করতেন বলে তাদের নামের সাথে পা যুক্ত হয়েছে। (পদ >পা)
  • পাল রাজবংশের আমলে চর্যাপদ রচনা শুরু হয়।

চর্যাপদের বয়স:

  • ডঃ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর মতে (২০২০-৬৫০) বছর = ১৩৭০ বছর।( প্রায়)
  • ডক্টর সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়সহ অধিকাংশের মতে (২০২০-৯৫০) বছর = ১০৭০ বছর। (প্রায়)

চর্যাপদের পদকর্তা ও পদসংখ্যা:

  • চার্জার কবিগণ সিদ্ধাচার্য নামে পরিচিত। সাধারণত বজ্রযানী ও সহজযানী আচার্যগণই এই নামে অভিহিত হতেন। তিব্বতীয় ভারতীয় কিংবদন্তিতে এরাই চৌরাশি সিদ্ধা নামে পরিচিত।

চর্যাপদের পদসংখ্যা:

  • ডঃ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর মতে ৫০ টি।
  • সুকুমার সেনের মতে ৫১ টি।
  • চর্যাপদ এর পদ সংখ্যা নিয়ে মতভেদ আছে। গ্রন্থের কয়টি পাতা নষ্ট হয়ে যাওয়াতে পদ সংখ্যা পাওয়া গেছে সাড়ে ৪৬ টি। ভুসুকুপার ২৩ নং পদের ১০ লাইনের মধ্যে প্রথম ৬ লাইন পাওয়া গেছে এবং কাহ্নপার ২৪ নং, তন্ত্রী পার ২৫ নং, কুক্কুরীপার ৪৮ নং পদ পাওয়া যায়নি।

পদকর্তা:

  • ডঃ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর মতে ২৩ জন।
  • সুকুমার সেনের মতে ২৪ জন।
পদকর্তা পদের সংখ্যা
কাহ্ন পা ১৩
ভুসুকু পা
কুক্কুরী পা
সরই পা
লুই পা
শবর পা
শান্তি পা
আর্যদেব, কম্বোলম্বর, চাটিল পা, তন্ত্রী, দারিক, বীণা পা, মহীধর পা, বিরুবা পা, ডোম্বী পা, কঙ্কন, গুণ্ডরী, জয়নন্দী, তারক, ধাম পা, ভদ্র পা, ঢেণঢণ পা প্রত্যেকে ১টি করে।
লাড়ীডোম্বাপা ১টি পদের উল্লেখ আছে, তবে পদ টি নেই।

 

চর্যাপদের পঙক্তি:

  • ‘আলি এঁ কালি এঁ বাট রুন্ধেলা।

 তা দেখি কাহ্ন বিমনা ভইলা’। -( রচয়িতা-কাহ্নপা)

  • ‘টালত মোর ঘর নাহি পড়বেশী,

 হারিত ভাত নাহি নিতি আবেশী’।-(রচয়িতা-ঢেগুণপা)

  • ‘আপনা মাংসে হরিণা বৈরী’। (রচয়িতা-ভুসুকুপা)
  • ‘চঞ্চল চীএ পৈঠা কাল।'(রচয়িতা- লুইপা)
  • ‘কমল মধু পিবিবি থাকেন ভামেরা'(রচয়িতা-মাননাথ)

চর্যাপদ এর ব্যবহৃত কিছু গুরুত্বপূর্ণ শব্দের অর্থ

  • কাআ- শরীর
  • চিখিল- কাদা
  • ধাম- নিবাস
  • দুলি-কচ্ছপ
  • বৈরী-শত্রু
  • বাণ-বর্ণ
  • বহুড়ী-বধূ
  • করিণা-হস্তী, হাতি
  • অহেরি- কিশোরী
  • বারুনী-মদ
  • কসণ-কালো
  • বিহণি-সকাল
  • নাবি-নৌকা
  • পসরা-সওদা
  • শাখি- সাক্ষী
  • শুন্ডিনী- মদ প্রস্তুতকারীনী
  • ছিনালী- ভ্রষ্টা নারী

আরও পড়ুনঃ সকল পরিক্ষায় আসা ২১০+টি বই ও লেখকের নাম একসাথে।

চর্যাপদের কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন: নিজে চেষ্টা করুন

১. ‘চর্যাচর্যবিনিশ্চয়’-এর অর্থ কী?

(A) কোনটি চর্যাগান, আর কোনটি নয় (B) কোনটি আচরণীয়,আর কোনটি নয়

(C) কোনটি চরাচরের, আর কোনটি নয় (D) কোনটি আচার্যের, আর কোনটি নয়

২. ড. মুহাম্মদ শহীদ্দুল্লাহ সম্পাদিত চর্যাপদ বিষয়ক গ্রন্থের নাম কী?

(A) Buddhist Mystic Songs (B) চর্যাগীতিকা 

(C) চর্যাগীতিকোষ (D) হাজার বছরের পুরাণ বাংলা ভাষার বৌদ্ধগান ও দোহা

৩. বাংলা সাহিত্যের প্রথম নিদর্শন চর্যাপদে প্রাপ্ত পদের সংখ্যা-

(A) ৪৬ টি (B) সাড়ে ৪৬ টি (C) ৪৯ টি (D) ৫০ টি

৪. প্রাচীনতম গ্রন্থ কোনটি?

(A) শ্রীকৃষ্ণ কীর্তন (B) মধুমালতি (C) চর্যাপদ (D) নুরনামা

৫. বিদ্যাপতি কোথাকার কবি ছিলেন?

(A) নবদ্বীপের (B) বৃন্দাবনের (C) মিথিলার (D) বর্ধমানের

৬. চর্যাপদের আদি কবি কে?

(A) কাহ্নপা (B) লুইপা (C) কুক্কুরীপা (D) শবরপা

৭. চর্যাপদের কবিগণের মধ্যে সর্বাধিক পদরচয়িতার গৌরবের অধিকারী-

(A) লুই পা (B) ভুসুক পা(8) (C) সরহ পা (D) কাহ্ন পা

৮. ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’ কাব্যের খন্ড সংখ্যা-

(A) ১০ (B) ১১ (C) ১২ (D) ১৩

৯. বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগের নিদর্শন কোনটি?

(A) নিরঞ্জনের রুস্মা (B) গুপিচন্দ্রের সন্ন্যাস (C) দোহাকোষ (D) ময়নামতির গান

১০. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, চর্যাপদের ভাষা—

(A) ব্রজবুলি (B) জগাখিচুড়ি (C) সন্ধ্যাভাষা (D) বঙ্গ-কামরুপী

১১. বাংলাভাষার আদি স্তরের স্থিতিকাল কোনটি?

(A) দশম থেকে চতুর্দশ শতাব্দী (B) একাদশ থেকে পঞ্চদশ শতাব্দী 

(C) দ্বাদশ থেকে ষোড়শ শতাব্দী  (D) ত্রয়োদশ থেকে শপ্তদশ শতাব্দী

১২. বাংলা ভাষার প্রাচীন নিদর্শন-

(A) পুঁথি সাহিত্য (B) খনার বচন (C) নাথ সাহিত্য (D) চর্যাপদ

১৩. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ‘চর্যাপদ’ যে গ্রন্থে প্রকাশ করেছিলেন?

(A) চর্যাপদাবলি (B) চর্যাগীতিকা 

(C) চর্যাচর্যবিনিশ্চয় (D) হাজার বছরের পুরান বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধ গান ও দোহা 

১৪. বাংলা সাহিত্যর প্রথম নিদর্শন চর্যাপদের প্রাপ্ত পদের সংখ্যা-

(A) ৪৬টি (B) সাড়ে ৪৬টি (C) ৪৯টি (D) ৫০টি

১৫. বাংলা ভাষার উদ্ভব সম্পর্কে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ এর মত-

(A) গৌড়ীয় প্রাকৃত (B) মাগধী অপভ্রংশ (C) গৌড় অপভ্রংশ (D) প্রাচীন অবহটঠ

১৬. চর্যাপদ আবিষ্কার করেন-

(A) ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ (B) বসন্তরঞ্জন রায় (C) ড. দীনেশ চন্দ্র সেন (D) হরপ্রসাদ শাস্ত্রী

১৭. কবি আলাওলের জন্মস্থান কোনটি ?

(A) বার্মার আরাকান (B) ফরিদপুর সুরেশ্বর (C) চট্টগ্রামের জোবরা (D) চট্টগ্রামের পটিয়া

১৮. চর্যাপদের কবির সংখ্যা কত জন ?

(A) ২৫ (B) ২৩ (C) ২৬ (D) ২৪

১৯. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, চর্যাপদের ভাষা—

(A) ব্রজবুলি (B) জগাখিচুড়ি (C) সন্ধ্যাভাষা (D) বঙ্গ-কামরুপী

২০. ‘চর্যাপদ’ কত সালে আবিষ্কৃত হয় ?

(A) ১৮০০ (B) ১৮৫৭ (C) ১৯০৭ (D) ১৯০৯

২১. বৌদ্ধদের কোন সম্প্রদায়ের সাধকগণ চর্যাপদ রচনা করেন?

(A) মহাযানী (B) সহজযানী (C) হীনযনী (D) ব্রজযানী

২১. চর্যাপদের কতটি প্রবাদ বাক্য পাওয়া যায়?

(A) ৪টি (B) ৫টি (C) ৬টি।(D) ৭টি

২২. চর্যাপদ কোন ধর্মাবলম্বীদের সাহিত্য?

(A) সানাতন হিন্দু (B) জৈন (C) সহজিয়া বৌদ্ধ (D) হরিজন

২৩. ‘আপনা মাংসে হরিণা বৈরী’- লাইনটি কোন সাহিত্যের অন্তর্ভূক্ত?

(A) লোকসাহিত্য (B) ব্রজবুলি (C) বৈষ্ণব গীতিকা (D) চর্যাপদ

২৪. খনার বচন কি সংক্রান্ত?

(A) রাজনীতি (B) শিল্প (C) কৃষি (D) ব্যবসা

২৫. চর্যাপদের কোন পদটি খন্ডিত আকারে পাওয়া গেছে?

(A) ১০ নং পদ (B) ১৬ নং পদ (C) ১৮ নং পদ (D) ২৩ নং পদ

২৬. কোন সাহিত্যেকর্মে সান্ধ্যভাষার প্রয়োগ আছে?

(A) পদাবলী (B) গীতগোবিন্দ (C) চৈতন্যজীবনী (D) চর্যাপদ

২৭. চর্যাপদের কোন পদটি খন্ডিত আকারে পাওয়া গেছে?

(A) ১০ নং পদ (B) ১৬ নং পদ (C) ১৮ নং পদ (D) ২৩ নং পদ

২৮. চর্যাপদ হলো মূলত

(A) গানের সংকলন (B) কবিতার সংকলন (C) প্রবন্ধের সংকলন (D) কোনটিই নয়

২৯. বাংলা সাহিত্যের ই্তিহাসে প্রথম গ্রন্থ কোনটি?

(A) বেদ (B) শূন্যপূরাণ (C) মঙ্গলকাব্য (D) চর্যাপদ

৩০. চর্যাপদ আবিষ্কৃত হয় কোথা থেকে ?

(A) বাঁকুড়ার এক গৃহস্থের গোয়াল ঘর থেকে (B) আরাকান রাজগ্রন্থাগার থেকে

 (C) নেপালের রাজগ্রন্থশালা থেকে (D) সুদূর চীন দেশ থেকে

৩১. বাংলা সাহিত্যের আদি কবি কে?

(A) কাহ্নপা (B) চেণ্ডনপা (C) লুইপা (D) ভূসুকুপা

৩২. কোন কবি নিজেকে বাঙালি বলে পরিচয় দিয়েছেন ?

(A) গোবিন্দ দাস (B) কায়কোবাদ (C) কাহুপা (D) ভুসুকুপা

৩৩. বাংলা ভাষার আদি নিদর্শন চর্যাপদ আবিস্কৃত হয় কত সালে ?

(A) ২০০৭ (B) ১৯০৭ (C) ১৯০৯ (D) ১৯১৬

৩৪. চর্যাপদ কোন ছন্দে লেখা?

(A) অক্ষরবৃত্ত (B) মাত্রাবৃত্ত (C) স্বরবৃত্ত (D) অমিত্রাক্ষর

৩৫. বাংলা ভাষার প্রথম গানের সংকলন –

(A) চর্যাপদ (B) বৈষ্ণব পদাবলী (C) ঐতরেয় আরন্যকে (D) দোহাকোষ

প্রাচীন যুগের কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর:

১ ‘আলালের ঘরের দুলাল’ এর রচয়িতা কে? 

=প্যারীচাদ মিত্র।

২ ‘কথোপকথন’ এর রচয়িতা কে? 

=উইলিয়াম কেরি।

৩ ‘গাজিকালু ও চম্পাবতী’ কোন ধরনের সাহিত্য? 

=পুঁথি সাহিত্য।

৪ ‘পুরষ্কার’ কার কবিতা? =রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

৫ ‘বাঙলা’/’বঙ্গ’/’বাঙ্গালা’ নামগুলো উৎপত্তির কাহিনী বয়ান করেছেন কে? 

=সম্রাট আকবরের সভারত্ন আবুল ফজল

৬ ‘ভারততীর্থ’ কার লেখা কবিতা? 

=রবিঠাকুর

৭ “আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে” এটি কার রচনা? 

=ভারত চন্দ্র রায়গুণাকর

৮ “আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে” দেবী অন্নদার কাছে এটি কার প্রার্থনা? 

=ঈশ্বরী পাটনি

৯ “মন্ত্রের সাধন কিংবা শ্রীর পাতন” / “নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়” কার রচিত?

 =ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর

১০ “যে সব বঙ্গেত জন্মি হিংসে বঙ্গবাণী… ন জানি” কোন কাব্যের অন্তর্গত? 

=নূরনামা

১১ ১৮০০ শতকের আগে কবিতা গাওয়া হতো। কবিতা পড়ার বস্তু হয়ে দাঁড়ালো কোন কবির হাত ধরে? 

=মাইকেল মধুসূদন দত্ত

১২ আদি যুগে লোকজীবনের কথা বিধৃত সর্বপ্রথম সাহিত্যক নিদর্শন কোনটি?

= ডাক খনার বচন।

১৩ আধুনিক বাংলা গীতি কবিতার সূত্রপাত? 

=টপ্পাগান।

১৪ আধুনিক বাংলা ভাষার পরিধি কত সাল থেকে শুরু হয়েছে ? 

= ১৮০১ সাল থেকে। (প্রস্তুতিপর্বঃ ১৮০০-১৮৬০, বিকাশপর্বঃ ১৮৬০-১৯০০, রবীন্দ্রপর্বঃ ১৯০০-১৯৩০, রবীন্দ্রোত্তরঃ ১৯৩০-১৯৪৭ ও বাংলাদেশঃ ১৯৪৭-)

১৫ আধুনিক যুগ কোন সময় পর্যন্তু বিস্তৃত? 

=১৮০১ সাল থেকে বর্তমান।

১৬ আধুনিক যুগের কোন প্রতিভাধর কবির হাত ধরে সনেট, মহাকাব্য, ট্রাজেডি এসেছে?

 =মাইকেল মধুসূদন দত্ত

১৭ আধুনিক যুগের শ্রেষ্ঠ প্রতিভু কে?

= বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

১৮ আধুনিক যুগের সবচেয়ে বড় অবদান কোনটি?

= গদ্য

১৯ আধুনিকের পন্ডিতগণের মতে, নেপালে প্রাপ্ত চর্যাপদের পুঁথির নাম কি ? 

=চর্যাগীতি কোষ।

২০ আব্দুল হাকিমের আটটি কাব্যের মধ্যে উল্লেখযোগ্যগুলোর নাম লিখুন। 

=ইউসুফ-জোলেখা, নূরনামা, কারবালা, শহরনামা

২১ আরাকান রাজ্যের শ্রেষ্ঠ কবি কে?

= আলাওল

২২ আরাকান রাজ্যের সভাকবি কারা? 

=আলাওল, মাগন ঠাকুর, কাজি দৌলত

২৩ আর্য ভারতীয় গোষ্ঠীর প্রাচীনতম সাহিত্যেক ভাষার নাম কি?

= বৈদিক ও সংস্কৃত ভাষা।

২৪ আলাওল কোন দশকের কবি?

= সপ্তদশ

২৫ আলাওল কোন যুগের কবি? =মধ্য যুগের।

২৬ আলাওলের শ্রেষ্ঠ কাব্য কোনটি? 

=পদ্মাবতী

২৭ উনিশ শতকের নাট্য সাহিত্য ধারার অন্যতম রূপকার?

 =মাইকেল মধুসুদন দত্ত।

২৮ উনিশ শতকের সবচেয়ে খ্যাতনামা বাউল শিল্পী কে?

= লালন শাহ।

২৯ এক অক্ষর কবিতাও না লিখে বাংলাসাহিত্যের ইতিহাস দখল করে আছেন কে?

= শ্রী চৈতন্যদেব

৩০ কত সময় ধরে মঙ্গলকাব্য রচিত হয়?

= প্রায় পাঁচশো বছর

৩১ কত সালে ‘শ্রীরামপুর মিশন’ প্রতিষ্ঠিত হয় ? 

=১৮০০ খ্রিষ্টাব্দে।

৩২ কত সালে ভারতবর্ষ তিন খন্ড হয়? 

=১৯৪৭

৩৩ কত সালে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্য উদ্ধার করা হয়? 

=১৯০৯

৩৪ কবিকঙ্কন কার উপাধি ছিল? তিনি কোথাকার কবি ছিলেন?

 =মকুন্দরাম চক্রবর্তী, সিলিম্বাজ শহরের গোপীনাথ তালকের দামুন্যা গ্রামে

৩৫ কবীন্দ্রবচন সমুচ্চয় ও সদুক্তি কর্ণামৃত কাব্য কোন যুগে রচিত?

= সেনযুগে।

৩৬ কাঙ্গাল হরিনাথ কখন আবির্ভূত হন?

= উনিশ শতকের শেষার্ধে।

৩৭ কারা ফারসি ভাষায় ইউসুফ জোলেখা রচনা করেন?

= ফেরদৌসি ও জামী

৩৮ কাশীরাম কোন সময়ের মধ্যে মহাভারত রচনা করেন? 

=১৬০২-১৬১০ এর মধ্যে

৩৯ কীর্তিলতা পুরুষ পরীক্ষা বিভাগসার প্রভৃতি সাহিত্যকর্মের রচয়িতা কে? 

=মিথিলার কবি বিদ্যাপতি।

৪০ কৃত্তিবাসের জন্মস্থান কোথায়?

= নদীয়ার ফুলিয়া গ্রামে

৪১ কোন কোন লিপির উপর বাংলা লিপির প্রভাব বিদ্যমান ?

 =উড়িষ্যা মৈথিলি ও আসামী লিপির উপর।

৪২ কোন গ্রন্থে প্রমাণিত হয় যে চর্যাপদ বাঙ্গালির? 

=বাঙলা ভাষার উৎপত্তি ও বিকাশ(১৯২৬)

৪৩ কোন ব্যাকরণবিদের কাছে সংস্কৃত ভাষা চূড়ান্তভাবে বিধিবদ্ধ হয়? 

=ব্যাকরণবিদ পানিনির হাতে।

৪৪ কোন ভাষা থেকে বাংলা ভাষার উৎপত্তি?

= মাগধী প্রাকৃত।

৪৫ কোন ভাষা বৈদিক ভাষা নামে স্বীকৃত? 

=আর্যগণ যে ভাষায় বেদ-সংহিতা রচনা করেছেন।

৪৬ কোন ভাষাকে প্রাকৃত ভাষা বলে? 

=খ্রিষ্টপূর্ব ৮০০ খ্রীঃ দিকে বৈদিক ভাষা বির্বতনকালীণ সময়ে জনসাধারন যে ভাষায় নিত্য নতুন কথা বলত।

৪৭ কোন ভাষাটি মানুষের মুখে মুখে বদলে পরিণত হয়েছে বাংলা ভাষায়?

= প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা

৪৮ কোন ভাষায় বৌদ্ধরা তাদের ধর্মগ্রন্থ আর অন্যান্য বই লিখতেন?

= পালি ভাষায়

৪৯ কোন যুগকে অবক্ষয়ের যুগ বলা হয় ?

= ১৭৬০-১৮৬০সাল পর্যন্ত।

৫০ কোন যুগে বাংলা লিপি ও অক্ষরের গঠনকার্য শুরু হয় ? 

=সেন যুগে।

৫১ কোন যুগে বাংলা লিপির গঠনকার্য স্থায়ীরূপ লাভ করে? 

=প্রাচীন যুগে।

৫২ কোন লিপি থেকে বাংলা লিপির উদ্ভব ঘটেছে?

= ব্রাহ্মী লিপি।

৫৩ কোন শতকে বাংলাদেশ বিভিন্ন জনপদে বিভক্ত ছিল? 

=ষষ্ঠ- সপ্তদশ

৫৪ কোন শতকে বাংলাসাহিত্যের জন্ম? 

=দশম শতকের মাঝামাঝি

৫৫ কোন শতকে মুসলমানরা বাংলায় আসে? 

=তের শতক(১২০০-১২০৭)

৫৬ কোরআন শরীফ প্রথম বাংলায় অনুবাদ কে করেন?

= ভাই গিরিশচন্দ্র সেন।

৫৭ কোরেশী মাগন ঠাকুর কাকে আশ্রয় দিয়েছিলেন? 

=আলাওল

৫৮ কোরেশী মাগন ঠাকুরের রচনা কোনটি? 

=চন্দ্রাবতী

৫৯ খ্রিষ্টপূর্ব ৩য় শতকে কোন শাসকের শাসনমালা ব্রাহ্মী লিপিতে উৎকীর্ন পাওয়া যায়? 

=সম্রাট অশোক।

৬০ গীত গোবিন্দ কাব্যগ্রন্থের রচয়িতার নাম কি ? 

=জয়দেব।

৬১ গীতি কাব্যের রচয়িতা কে?

 =গোবিন্দ্রচন্দ্র দাস।

৬২ গৌড়ের প্রতিদ্বন্দী ছিল কোন জনপদ?

= বঙ্গ

৬৩ চন্ডীদাস কোন যুগের কবি ? 

=মধ্যযুগের।

৬৪ চন্ডীদাস সমস্যা কি?

= বাংলা সাহিত্য একাধিক পদকর্তা নিজেকে চন্ডীদাস পরিচয় দিয়ে যে স মস্যা সৃষ্টি করেছেন তাই চন্ডীদাস সমস্যা ।

৬৫ চন্ডীমঙ্গলকাব্যের কবিগণের নাম লিখুন?”

= মাণিক দত্ত, দ্বিজ মাধব, মকুন্দরাম চক্রবর্তী, দ্বিজ রামদেব, ভারতচন্দ্র রায় গুণাকর।

৬৬.চন্ডীমঙ্গলকাব্যের দু’জন সেরা কবি কে কে? 

=ভারতচন্দ্র রায় গুণাকর, মকুন্দরাম চক্রব্রর্তী

৬৭. চর্যা সংগ্রহটিতে সর্বসমেত কয়টি চর্যাগীতি ছিল? 

=৫১ টি।

৬৮. চর্যাগীতিকা হরপ্রসাদ শাস্ত্রী কর্তৃক কবে প্রকাশিত হয়েছিল ? 

=১৯১৬ সালে।

৬৯ চর্যাপদ আবিষ্কৃত হয় কত সালে, কে করেন, কোথা থেকে?

 =১৯০৭, পন্ডিত মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ

৭০ চর্যাপদ কিসের সংকলন? 

=কবিতা বা গানের সংকলন

৭১ চর্যাপদ কোথায় পাওয়া যায়?

=নেপালের রাজ দরবারের গ্রন্থাগারে।

৭২ চর্যাপদ কোন ছন্দে রচিত ? 

=মাত্রাবৃত্তে ছন্দে।

৭৩ চর্যাপদ কোন ভাষায় রচিত হয়?

= বঙ্গকামরুপী ভাষায়।

৭৪ চর্যাপদ কোন যুগের নিদর্শন? 

=আদি/ প্রাচীন যুগ।

৭৫ চর্যাপদ কোন সময়ে রচিত হয় ? 

=সপ্তম থেকে দ্বাদশ শতাব্দীর মধ্যবর্তী সময়ে।

৭৬ চর্যাপদ যে বাঙ্গালির একথা প্রমাণ করে ছাড়েন কে? 

=ডঃ সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়

৭৭ চর্যাপদ রচনা করেন কারা ? 

=বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্যগণ।

৭৮ চর্যাপদের ঢং এ আধুনিক কোন কবি কবিতা রচনা করেছেন? 

=রবি ঠাকুর

৭৯ চর্যাপদের তিব্বতী অনুবাদ কে আবিস্কার করেন? 

=ডঃ প্রবোধচন্দ্র বাগচী।

৮০ চর্যাপদের পদগুলো কোন কোন ভাষায় রচিত বলে দাবি করা হয়? 

=বাংলা, হিন্দী, মৈথিলী, অসমীয় ও উড়িয়া ভাষায়।

৮১ চর্যাপদের পুঁথি নেপালে যাবার কারন কি?

= তুর্কী আক্রমনকারীদের ভয়ে পন্ডিতগণ তাদের পুুথি নিয়ে নেপালে পালিয়ে গিয়ে শরনার্থী হয়েছিলেন।

৮২ চর্যাপদের পুঁথিকে কোথা কে এবং কখন আবিস্কার করেন?

 =মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭।

৮৩ চর্যাপদের প্রতিপাদ্য বিষয় কি?

= চর্যাপদের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় বৌদ্ধ সহজিয়া সিদ্ধাদের গুহ্য সাধনতত্ত্ব এবং তৎকালীন সমাজ ও জীবনের পরিচয়।

৮৪ চর্যাপদের ভাষা কে কি নাম দেওয়া হয়েছে?

= সান্ধ্য/আলো আঁধারির ভাষা

৮৫ চর্যাপদের ভাষাকে কে বাংলা ভাষা দাবি করেছেন? 

=অধ্যাপক সুনীতি কুমার চট্টোপাধ্যয়।

৮৬ চর্যাপদের ভাষায় কোন অঞ্চলের নমুনা পরিলক্ষিত হয়? 

=পশ্চিম বাংলার প্রাচীনতম কথ্য ভাষার।

৮৭ চর্যাপদের মোট কতটি পদ উদ্ধার করা হয়েছিলো? 

=সাড়ে ছেচল্লিশটি

৮৮ চর্যাপদের মোট কবি কতজন? 

=২৪ জন

৮৯ চর্যাপদের রচনা কাল কত?

= সপ্তম -দ্বাদশ শতাব্দী।

৯০ চর্যাপদের রচনাকাল?

= ৯৫০-১২০০

৯১ চর্যাপদের সবচেয়ে সুন্দর কবিতাটি কে লিখেছেন?

 =শবরীপা

৯২ চর্যাপদের সর্বাধিক পদ রচয়িরা কাহ্নপার অন্যনাম কি?

 =কৃষ্ণাচার্য

৯৩ চর্যাপদের সাথে আবিষ্কৃত অন্য বইদুটির নাম কি? 

= দোহাকোষ ও ডাকার্ণব

৯৪ চর্যার প্রাপ্ত কোন পদটির শেষাংশে পাওয়া যায় নি ?

= ২৩ সংখ্যক পদ।

৯৫ চর্যার প্রাপ্ত কোন সংখ্যক পদটি টীকাকার কর্তৃক ব্যাখ্যা হয় নি ?

= ১১ সংখ্যক পদ।

৯৬ চর্যার প্রাপ্ত পুঁথিতে কোন কোন সংখ্যক পদে সম্পূর্ন পাওয়া যায় নি ? 

=২৪, ২৫, ৪৮ সংখ্যক পদ।

৯৭ চাঁদসওদাগর কতদিন ঘরহারা ছিলেন? 

=১২ বছর

৯৮ চৈতন্য পরবর্তী যুগ বা মধ্যযুগের শেষ কবি কে? 

=ভারতচন্দ্র রায় গুনাকর।

৯৯ চৈতন্যচরিতামৃত কার লেখা?

 =কৃষ্ণদাস কবিরাজ

১০০ চৈতন্যদেবের আসল নাম ও ডাক নাম কি ছিল? 

=বিশ্বম্ভর, নিমাই

Share on facebook
Facebook
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on telegram
Telegram
Share on email
Email
Share on twitter
Twitter

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts

Latest Jobs

সকল কবি সাহিত্যিক লেখকের সাহিত্যকর্ম মনে রাখার উপায় !

সকল কবি সাহিত্যিক লেখকের সাহিত্যকর্ম মনে রাখার উপায় ! ইসমাইল হোসেন সিরাজীর উপন্যাস মনে রাখার সহজ উপায়: রানুর ফিতা ১। রা – রায় নন্দিনী ২।

Read More »

সিলেট কর কমিশনারের কার্যালয়ে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি

সিলেট কর কমিশনারের কার্যালয়ে ৭১ জনের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত। সিলেট কর কমিশনারের কার্যালয়ে মোট ৯ টি পদে ৭১ জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে। আবেদন শুরু-২৯ ডিসেম্বর

Read More »

প্রতিরক্ষা মন্ত্রনালয়ে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি

প্রতিরক্ষা মন্ত্রনালয়ে ৩৮ জনের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত। আবেদন শুরু-১৫ ডিসেম্বর, ২০২০ সকাল ১০ টা থেকে। আবেদন শেষ- ৪ জানুয়ারি, ২০২০ বিকাল ৫ টা। আবেদন করতে

Read More »

শক্তির উৎস

শক্তির উৎস শক্তির প্রধান উৎস (prime sources of energy) সূর্যই প্রায় সকল শক্তির উৎস । এছাড়াও পরমাণুর অভ্যন্তরে নিউক্লিয়াসের নিউক্লিয় শক্তি ও  পৃথিবীর অভ্যন্তরে অবস্থিত উত্তপ্ত গলিত

Read More »

বিশ্বসভ্যতা (A 2 Z)। ২০০ MCQ

বিশ্বসভ্যতা পৃথিবী এ পর্যন্ত পাড়ি দিয়েছে চারটি বরফ যুগ ও চারটি আন্তঃবরফ যুগ। প্রতি যুগেই উষ্ণ অঞ্চলে গিয়ে টিকে থাকা প্রাণীদের দেহের আকৃতিতে কিছু পরিবর্তন

Read More »

সকল কবি সাহিত্যিক লেখকের সাহিত্যকর্ম মনে রাখার উপায় !

সকল কবি সাহিত্যিক লেখকের সাহিত্যকর্ম মনে রাখার উপায় ! ইসমাইল হোসেন সিরাজীর উপন্যাস মনে রাখার সহজ উপায়: রানুর ফিতা ১। রা – রায় নন্দিনী ২।

Read More »

সিলেট কর কমিশনারের কার্যালয়ে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি

সিলেট কর কমিশনারের কার্যালয়ে ৭১ জনের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত। সিলেট কর কমিশনারের কার্যালয়ে মোট ৯ টি পদে ৭১ জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে। আবেদন শুরু-২৯ ডিসেম্বর

Read More »

প্রতিরক্ষা মন্ত্রনালয়ে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি

প্রতিরক্ষা মন্ত্রনালয়ে ৩৮ জনের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত। আবেদন শুরু-১৫ ডিসেম্বর, ২০২০ সকাল ১০ টা থেকে। আবেদন শেষ- ৪ জানুয়ারি, ২০২০ বিকাল ৫ টা। আবেদন করতে

Read More »

শক্তির উৎস

শক্তির উৎস শক্তির প্রধান উৎস (prime sources of energy) সূর্যই প্রায় সকল শক্তির উৎস । এছাড়াও পরমাণুর অভ্যন্তরে নিউক্লিয়াসের নিউক্লিয় শক্তি ও  পৃথিবীর অভ্যন্তরে অবস্থিত উত্তপ্ত গলিত

Read More »

বিশ্বসভ্যতা (A 2 Z)। ২০০ MCQ

বিশ্বসভ্যতা পৃথিবী এ পর্যন্ত পাড়ি দিয়েছে চারটি বরফ যুগ ও চারটি আন্তঃবরফ যুগ। প্রতি যুগেই উষ্ণ অঞ্চলে গিয়ে টিকে থাকা প্রাণীদের দেহের আকৃতিতে কিছু পরিবর্তন

Read More »